ভেড়া পালন করে আয়ঃ
আমাদের দেশের আবহাওয়া ভেড়া পালনের উপযোগী। তাছাড়া যারা বেশি পুঁজির কারণে বড় কোন খামার গড়ে তুলতে পারছেন না তারা অল্প কয়েকটি ভেড়া দিয়ে সহজেই ভেড়ার খামার গড়ে তুলতে পারেন। অন্যন্য পশুর তুলনায় ভেড়ার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। তাদের আলাদা ভাবে অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয় না। তাই অল্প সময়ে ভেড়া পালন করে অধিক আয় করা সম্ভব।
বর্তমান সময়ে ভেড়া পালন একটি লাভজনক পেশা। বাচ্চা ও মাংস উৎপাদনের বিখ্যাত হওয়ায় অনেকেই ভেড়া পালনের দিকে ঝুকছেন। পারিবারিক খামার বা বাণিজ্যিক খামার যে কারণেই ভেড়ার খামার করা হোক না কেন ভেড়া পালন করে আয় করতে হলে ভেড়ার দাম, খাবার, জীবনকাল, রোগবালাই ও পালন পদ্ধতি জানা প্রয়োজন।
ভেড়ার জীবনকালঃ
ভেড়া সাধারণত ৮/১০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। একটি স্ত্রী ভেড়া ৫/৬ মাসে প্রজননের ক্ষমতা লাভ করে এবং ১০/১২ মাস বয়সে বাচ্চা প্রসব করে। ভেড়ার গর্ভকাল ১৪৫–১৪৮ দিন। ভেড়া বছরে ২ বার বাচ্চা দেয়। একবারে একটি ভেড়া ১–৩ টি বাচ্চা প্রসব করে।
ভেড়ার দামঃ
অঞ্চল ও আকার ভেদে ভেড়ার দামের ভিন্নতা থাকতে পারে। একটি পূর্ণবয়স্ক ভেড়া সাধারণত ৭–১০ হাজার এবং ভেড়ি ৩–৫ হাজার টাকায় পাওয়া যায়।
ভেড়ার রোগবালাইঃ
অন্যন্য পশুর চাইতে ভেড়ার রোগবালাই খুবই কম। ভেড়া যে কোন পরিবেশে সহজে মানিয়ে নিতে পারে।তবে ভেড়ার খামার করে আয় করতে হলে পিপিআর, নিউমোনিয়া, কৃমিজনিত রোগের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।
পিপিআরঃ
ছাগল বা ভেড়ার অন্যতম প্রধান প্রাণঘাতী রোগ পিপিআর। এর জন্য প্রতি বছর ভেড়াকে পিপিআর টিকা দেওয়া প্রয়োজন। সাধারণত ৪/৫ বছর বয়সে ভেড়া পিপিআর ভ্যাকসিন দেওয়ার উপযোগী হয়।
নিউমোনিয়াঃ
পিপিআরের পর সবচাইতে বেশি ভেড়া মারা যায় নিউমোনিয়ার কারণে। তাই ভেড়ার যাতে ঠান্ডা না লাগে সে বিষয়ে লক্ষ্য রেখে ঘর তৈরি ও যত্ন নেওয়া উচিত। নিউমোনিয়ার জন্য সাধারণত এ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।
কৃমিজনিত রোগঃ
পিপিআরের মত প্রাণঘাতী না হলেও ভেড়ার কৃমিজনিত রোগ স্বাস্হ্যর জন্য মারাত্মক হতে পারে। তাই কৃমজনিত রোগ প্রতিরোধে বছরে ০২ বার কৃমিনাশক ডোজ দিতে হবে।
রোগ প্রতিরোধঃ
ভেড়া পালন করে আয় বৃদ্ধির জন্য রোগ প্রতিরোধে লক্ষ্য রাখতে হবে। খামারে রোগ প্রতিকারের চাইতে প্রতিরোধে অধিক জোর বেশি জোর দেওয়া প্রয়োজন। এতে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। খামারের রোগ প্রতিরোধে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
০১। ভেড়ার ঘর সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
০২। ভেজা স্যাতস্যাতে ঘরে ভেড়াকে রাখা যাবে না।
০৩। ভেড়া ঠান্ডা সহ্য করতে পারে না তাই শীতে বিশেষ যত্ন নিতে হবে।
০৪। গরমের সময় খামারে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে।
০৫। খামার মশা–মাছি মুক্ত রাখতে হবে।
০৬। ভেড়াকে নিয়মিত সুষম খাদ্য দিতে হবে।
০৭। কোন ভেড়া অসুস্থ হয়ে গেলে সাথে সাথে আলাদা করে ফেলতে হবে।
০৮। নিয়মিত পিপিআর রোগের ভ্যাকসিন ও কৃমিনাশক ডোজ সম্পন্ন করতে হবে।
০৯। খামারে নতুন ভেড়া নিয়ে আসলে অন্তত ১০ দিন কোয়ারান্টাইনে রাখতে হবে।
১০। কোন ক্রমেই ছত্রাক আক্রান্ত ও পঁচা খাবার ভেড়াকে সরবরাহ করা যাবে না।
