মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তেজনার মাত্রা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলার হুমকি দেওয়ার পর অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
খার্গ দ্বীপ ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল এখান থেকে রপ্তানি করা হয়। ফলে এই স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ শুধু ইরানের অর্থনীতিকেই নয়, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহকেও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, যেখানে দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইতোমধ্যে খার্গ দ্বীপের কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তবে তেল অবকাঠামো এখনো সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হয়নি। ট্রাম্প বলেছেন, পরিস্থিতি খারাপ হলে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হতে পারে।
অন্যদিকে ইরান এই হুমকিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps জানিয়েছে, ইরানের তেল ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে তার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। তারা সতর্ক করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর তেল স্থাপনা এবং সামরিক ঘাঁটিও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের Fujairah অঞ্চলে একটি তেল লোডিং এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ড্রোন প্রতিহত করার সময় তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে কিছু সময়ের জন্য তেল লোডিং কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধ দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক মিলিয়ন মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। সংঘাত শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নেই; লেবানন ও উপসাগরীয় অঞ্চলেও হামলার ঘটনা ঘটছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপ বা হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে গুরুতর সংকট সৃষ্টি করতে পারে। এতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
