বর্তমানে মানসিক রোগ মারাত্মক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।মানসিক রোগের সাথে শারীরিক লক্ষণসমূহ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটি আশ্চর্যজনক কিছু নয়। অনেকে বিষয়টি এড়িয়ে চলে। যা একেবারে ঠিক নয়। মানসিক রোগের ফলে এমন কিছু শারীরিক লক্ষণসমূহ দেখা দেয় যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
বুকের ব্যাথাঃ
মানসিক রোগের সাথে বুকের ব্যাথার যথেষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক সমস্যার কারণে বুকের ব্যাথা হতে পারে। যার কারণে অনেকেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। যদিও পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে শারীরিক গুরুতর কোন সমস্যা পাওয়া যায় না। তবুও সময়মত বুকের ব্যাথার চিকিৎসা করা উচিত।
পেটের সমস্যাঃ
পেটের ব্যাথা মানসিক সমস্যার কারণে হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়। কোন কাজে যাওয়ার আগে অথবা কাজ থেকে এসে অকারণে পেট মুচড় দিয়ে উঠে। যার ফলে বারবার টয়লেটে যাওয়া যেতে পারে। এটা খাদ্যভ্যাসের কারণেও হতে পারে। তবে নিয়মিত এর রকম পেটে সমস্যা মানসিক রোগের কারণে হতে পারে।
যৌন সমস্যাঃ
মানসিক রোগের শারীরিক লক্ষণসমূহ এর জন্য যৌন সমস্যা হতে পারে। তার মধ্যে রয়েছে লিঙ্গ উত্থান, দ্রুত বীর্য স্খলন ইত্যাদি। এসব সমস্যার মধ্যে শারীরিক স্থায়ী সম্পর্ক না থাকলেও মানসিক রোগের সাথে সংযোগ থাকতে পারে।
মানসিক রোগের শারীরিক লক্ষণসমূহ এর মধ্যে বুকের ব্যাথা, পেটের ব্যাথা ও যৌন সমস্যা ছাড়াও আরো কিছু লক্ষণ রয়েছে। যে লক্ষণগুলো মানসিক রোগের কারণে হতে পারে।
মানসিক রোগের শরীরিক অন্যন্য সমস্যাগুলোঃ
০১। ঘুমের সমস্যা হতে পারে যেমন হঠাৎ করে ঘুম কমে বা বেড়ে যাওয়া।
০২। নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া যেমন – বাইরে বেড়ানো বন্ধ করে দেওয়া, আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া ইত্যাদি।
০৩। হঠাৎ মন অতিরিক্ত খারাপ হওয়া বা অতিরিক্ত উৎফুল্ল অনুভব করা।
০৪। কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা হওয়ার যার কোন সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নাও থাকতে পারে।
০৫। অনেক সময় মানুষ নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে, যার মূলে মানসিক সমস্যা।
০৬। কিছু চিন্তা করা যায় না বা মনে থাকে না।
০৭। প্রচণ্ড ক্ষুধা হওয়া বা ক্ষুধা একেবারেই কমে যাওয়া।
০৮। কোন কিছু নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করা।
০৯। হ্যালুসিনেশন হওয়া বা অকারণে ঘন ঘন রেগে যাওয়া।
১০। নিজের ক্ষতি করার চিন্তা করা যেমন হাত কাটা বা আত্মাহত্যার চিন্তা মানসিক রোগের শারীরিক লক্ষ্মণসমূহ এর মধ্যে অন্যতম।
মানসিক সমস্যা নিরসনের জন্য রোগের প্রাথমিক অবস্থায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাহলে রোগটি সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব। মানসিক রোগের শারীরিক লক্ষ্মণসমূহ দেখা মাত্র মানসিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। তাছাড়া রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কাজ করা প্রয়োজন। সে জন্য প্রচুর শারীরিক ব্যায়াম করা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করা ভালো।
